রয়্যাল এনফিল্ড শুধু একটি মোটরসাইকেল নয়, এটি একটি লাইফস্টাইল। ঐতিহ্য, ক্লাসিক ডিজাইন আর শক্তিশালী ইঞ্জিন – এই তিনটির মিশেলে সাজানো এই বাইকটি অনেকের স্বপ্নের বাইক। তবে, এই স্বপ্নপূরণের আগে কিছু জিনিস জানা জরুরি। চলুন জেনে নিই কেন:
১. মূল্যের চেয়ে বেশি খরচ:
হ্যাঁ, রয়্যাল এনফিল্ড অন্যান্য বাইকের তুলনায় বেশি দামি। কিন্তু খরচ শুধু মূল্যতেই সীমাবদ্ধ নয়। রক্ষণাবেক্ষণ, পার্টস, ইন্স্যুরেন্স – সব মিলিয়ে বছরে কত খরচ হবে, সেটা আগে থেকে জানা জরুরি। রয়্যাল এনফিল্ডের পুরাতন ডিজাইন এবং বিশেষ ধরনের পার্টসের কারণে এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অন্যান্য বাইকের তুলনায় বেশি হতে পারে।
২. আরাম? হ্যাঁ, কিন্তু সবার জন্য নয়:
রয়্যাল এনফিল্ডের সিটিং পজিশন এবং সাসপেনশন সিস্টেম সবার জন্য আরামদায়ক নাও হতে পারে। দীর্ঘ যাত্রায় ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। টেস্ট রাইড করে নিজে বুঝে নিন, আপনার জন্য কেমন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. মাইলেজ? ভালো, কিন্তু আধুনিক বাইকের তুলনায় কম:
শহরে চলাচলের জন্য রয়্যাল এনফিল্ড ভালো, কিন্তু দীর্ঘ রোড ট্রিপে যদি যান, তাহলে মাইলেজ নিয়ে ভাবতে হবে। রয়্যাল এনফিল্ডের ইঞ্জিন যদিও শক্তিশালী, তবে আধুনিক বাইকের তুলনায় এর মাইলেজ তুলনামূলকভাবে কম।
৪. পার্টস? সব জায়গায় সহজে পাওয়া যাবে না:
বাংলাদেশে রয়্যাল এনফিল্ডের সকল মডেলের পার্টস সহজে পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বা ছোট শহরে পার্টস খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই, সার্ভিস সেন্টারের অবস্থান এবং পার্টসের উপলব্ধতা আগে থেকে জেনে নিন।
৫. শুধু একটি বাইক নয়, একটি লাইফস্টাইল:
রয়্যাল এনফিল্ড কেনা মানে শুধু একটি বাইক কেনা নয়। এর একটি বিশাল কমিউনিটি আছে। মিটিং, রাইড, ইভেন্ট – এই সবকিছুতে যোগদান করে আপনি এই কমিউনিটির অংশ হয়ে উঠতে পারেন। রয়্যাল এনফিল্ড চালানো মানে এই কমিউনিটিতে যোগদান করা।
তাহলে কখন রয়্যাল এনফিল্ড কিনবেন?
* আপনি যদি ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের প্রেমিক হন।
* আপনি যদি একটু ভিন্ন কিছু খুঁজছেন।
* আপনি যদি বাইককে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম না, একটি প্যাশন হিসেবে দেখেন।
* আপনি যদি একটি বাইক কমিউনিটির অংশ হতে চান।
মনে রাখবেন: রয়্যাল এনফিল্ড একটি ইমোশন। তাই কেনার আগে ভালো করে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।
আপনার জন্য রয়্যাল এনফিল্ড কি সঠিক পছন্দ?




Comments
Post a Comment